মোস্তাকিম বিল্লাহ ফরহাদ,ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি।
ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ৫নং সিরতা ইউনিয়নের চর খরিচা গ্রামের পশ্চিম এলাকায় জালাল মেম্বারের বাড়ির সামনে ভুয়া কোড ব্যবহার করে সবুজ বাংলা নামে স্কুল চালাচ্ছে একাটি প্রভাবশালী মহল। খুঁজ নিতে গেলে অশালীন আচরণ।
স্কুলে নেই কোন নীতিমালা বা কোন কমিটি। যে কাগজ পত্র গুলি পাওয়া গেছে এই গুলিও ভুয়া বলে জানা যায়। এই বিষয়ে গত ১৮/১২/২০২০ইং শুক্রবার সকাল ৯টায় অভিযোক্ত সবুজ বাংলা স্কুলের সামনে গ্রাম্য সালিসি বৈঠকেও তা প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৈঠকে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গণের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করেও ক্লাস পরিচালনা করতেও দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকগণ খুঁজ খবর নিতে গেলে স্কুল ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলাম জানায় আমি ১০০০০০/- (এক লক্ষ টাকা)র জামানত নেই, মাসে ভাড়া ২০০০/- (দুই হাজার টাকা) ভাড়া ধার্য করি। দু-মাস ধরে স্কুল চালাচ্ছে। উনি আরও বলেন, কোন কাগজ পত্র নেই আমি মৌখিক ভাবেই স্কুল পরিচালনা করতে ভাড়া দিয়েছি।
এ বিষয়ে আরও কিছু তথ্য জানতে চাইলে ভাড়িটিয়া নজরুল ইসলাম সাংবাদিকগণের সাথে অশালীন ভাবে আচরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলাম এর স্ত্রী শিল্পী আক্তার এসে তার স্বামী নজরুলকে টেনে বাড়ি নিয়ে যেতে যেতে বলে আমরা স্কুল এই ভাবেই চালাবো আপনাদের কিছু করার থাকলে কইরেন।
জানা গেছে, সবুজ বাংলা নামে স্কুলটি EMIS Coode: 303010580 ব্যবহার করে পরিচালনা করছে মোঃ মুক্তার উদ্দিন (মুক্তার) তার পিতার নাম জালাল উদ্দিন। মুক্তারের বাড়ি সিরতা ইউনিয়নের কন্দর্প পুর গ্রামে। মুক্তারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্কুল চলাকালে এক শিক্ষকের ফোন দিয়ে কথা হয় মুক্তারে সাথে। মুক্তার বলে আপনারা প্রশাসনিক ভাবে আমার বা আমার স্কুলের কিছু করতে পারলে করেন।
এমতাবস্থায় মুক্তারের নিকট হইতে কোন প্রকার তথ্য পাওয়া যায়নি। মুক্তারের ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হযরত মেম্বার সাংবাদিকদের বলেন, আমি গত শুক্রবার বৈঠকে ছিলাম আর যা বুঝলাম স্কুলটি ভুয়া কোড ব্যবহার করেই স্কুলটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এলাকার আরও কিছু লোকজনের কাছে জানতে চাইলে উনারা বলেন শুরুতেই ভুয়া ভবিষ্যতে কি হবে আল্লাহই ভাল জানে।
স্কুলটি ভুয়া ভাবে পরিচালনা করছে তা আমরা গত শুক্রবারে ভাল করে জেনেছি। এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান সরকারী ভাবে কাগজ পত্র করে এনে সঠিক ভাবে পরিচালনা করলে আমাদের কোন আপত্তি ছিলনা। যেহেতু ভুয়া তাই আমরা গ্রাম্য বৈঠকে মুক্তারকে স্কুল বন্ধ রাখতে বলে ছিলাম। আবার বাংলাদেশ সরকার জনগণের সার্থে চলমান “করোনা ভাইরাস” এর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
কিন্তু এই মুক্তার সরকারী বিধিনিষেধ না মেনে এমনকি গ্রামের গন্যমাণ্য ব্যক্তিগণের নিষেধ থাকা সত্যেও কিভাবে স্কুল চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সিরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবু সাঈদ এর কাছে জানতে চাইলে উনি বলেন আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। স্কুলের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সাংবাদিকদের একটি টিম কাজ করে যাচ্ছে। স্কুলটি ভুয়া না বৈধ এ বিষয়ে পরবর্তী নিউজে প্রকাশ করা হবে।
পাশেই একটি স্কুল রয়েছে যে স্কুলের নাম সবুজ ছায়া। স্কুলটির পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘ ২ বছর রুজিনা ম্যাডাম। উনি বলেন আমার স্কুলের এই কাগজ পত্র। আমারটা বৈধ কিন্তু মুক্তার এর স্কুল অবৈধ। আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে সব জেনে আসছি। এক প্রসঙ্গে রুজিনা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বলেন মুক্তারের সবুজ বাংলা স্কুলটি খতিয়ে দেখে সে অনুপাতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও ব্যক্ত করেন।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে