নিজস্ব প্রতিবেদক॥
দেশের সকল জেলা–উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় নির্মিতব্য মডেল মসজিদ নির্মাণে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ধর্মীয় স্থাপনায় স্বল্প দিনেই দেয়ালে ফাটল, ছাদের আস্তরণ খসে পড়া, বাউন্ডারি বেঁকে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যে মসজিদটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মান অনুযায়ী আধুনিক, টেকসই এবং নিরাপদ একটি উপাসনাস্থল হওয়ার কথা ছিল—নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে সেটিই এখন ধ্বংসসীমায় পৌঁছে গেছে।
৩ তলা ভিত্তির ওপর ৩ তলা ভবন—কিন্তু কাজে ভয়াবহ নিম্নমান! প্রকল্প সূত্রে জানা যায়—
দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য: ১৩,৮৮,২৪,৬৯৭ টাকা ১৩০ পয়সা। কার্যাদেশকৃত মূল্য: ১২,৮৮,৬৬,৭৮৩ টাকা ৭১২ পয়সা। দরপত্র আইডি: ৯০০৩৩২।
প্যাকেজ নম্বর: egp/Netra/2023-2024/Purbadhala Mosque Remaining।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: Baset Prokousholi Limited, সাতপাই,নেত্রকোণা। বাস্তবায়নকারী সংস্থা: গণপূর্ত বিভাগ (PWD), নেত্রকোণা।
স্থানীয়দের অভিযোগ—সাইট ডেভেলপমেন্ট, বাউন্ডারি ওয়াল,স্যানিটারি–ইলেকট্রিক্যাল কাজ, ড্রেনেজ,রড–সিমেন্ট,ইট–বালু—কোনো ক্ষেত্রেই সরকার অনুমোদিত মান বজায় রাখা হয়নি। প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্নের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। “মসজিদ যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে”—আতঙ্কে সাধারণ মানুষ!
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদ কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অভিযোগ করে জানান—মসজিদের দেয়ালে বড় বড় ফাটল!
নতুন ঢালাইয়ের চাদের আস্তরণ খসে পড়া!
বাউন্ডারি ওয়ালের বিভিন্ন স্থানে বেঁকে যাওয়া!
নিম্নমানের রড–সিমেন্ট–বালুর ব্যবহার!এলাকাবাসীর ভাষ্য—“ধর্মীয় স্থাপনার মতো পবিত্র জায়গায় এমন নিম্নমানের কাজ—এটি শুধু দুর্নীতি নয়,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অপমান।” ঠিকাদার–প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ! অভিযোগ রয়েছে—নির্মাণের বিভিন্ন ধাপে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান Baset Prokousholi Limited এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মিলেমিশে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তদারকি সংস্থা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা বারবার অভিযোগ পাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন—“মসজিদের টাকা লুট করে কেউ বেঁচে যেতে পারে না। এটি ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত।” “দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না”—আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ইমাম–মোয়াজ্জিন, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী বলেন—নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপ তদন্ত করতে হবে। জড়িত ঠিকাদার–প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিম্নমানের কাজ দ্রুত মেরামত ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করতে হবে। সরকারি অর্থ লুটের বিচার চাই।এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—“দুর্নীতি বন্ধ না হলে আমরা আন্দোলনে নামব।” এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মোখলেস দাবি করেন—“নির্মাণকাজ নিয়ম অনুযায়ী চলছে। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
নেত্রকোণা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজান আনোয়ারের মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি—‘সম্পূর্ণ তদন্ত চাই’। পূর্বধলার মডেল মসজিদ এখন নেত্রকোণার সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন—“এই দুর্নীতি শুধু টাকা লুট নয়; এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবমাননা। আমরা স্বচ্ছ তদন্ত চাই।”সরকারি অর্থে নির্মিত ধর্মীয় স্থাপনার এমন নিম্নমানের নির্মাণে সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে