Breaking News
Home / Uncategorized / ময়মনসিংহে সরকারি জমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শ্রমিকদল নেতা।।।

ময়মনসিংহে সরকারি জমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শ্রমিকদল নেতা।।।

স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহে বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি জমি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে।

ময়মনসিংহ খাগডহরে রেলওয়ে রোড স্টেশন এলাকায় রেলওয়ের সরকারি সম্পত্তি স্থানীয় এলাকার অসহায় হতদরিদ্র সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের মাঝে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাবমূর্তি নিয়ে চরম সমালোচনার দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে শহিদুল ইসলাম দুলাল ৫ শতাংশ করে রেলওয়ের সরকারি জমি লিজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ৩৭ জন হতদরিদ্র অসহায় গরীব মানুষের কাছে থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে যা সঠিক তদন্ত করলেই থলের বেড়াল বেড়িয়ে আসবে ।

অভিযুক্ত দুলাল মিজেকে একজন মুক্তিযুদ্ধা হিসাবে দাবী করলেও স্থানীয়দের দাবী সে একজন ভূয়া মুক্তিযুদ্ধা। অপরদিকে অনেকেই বলাবলি করছেন সে মুক্তিযুদ্ধা হউক বা না হউক,রেলওয়ের সরকারি সম্পদ বিক্রি করা বা জমি ক্রয় করে দেওয়ার লাইসেন্স সরকার বা কোন রাজনৈতিক দল তাকে দেয়নি। রেলওয়ের সম্পত্তি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার মত অপরাধের বিচার বা শাস্তির দাবী উঠেছে বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের মাঝে।

জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার প্রতারণাই শুধু নয়, তার বিরুদ্ধে নগরীর খাগডহর সি এসিড গোডাউনে ক্ষমতার দাপট আর আদিপত্য বিস্তার করারও অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে-দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ বিক্রি ও দখল বাণিজ্য, নিরীহ অসহায় হতদরিদ্র সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা শুধু দলের ভাবমূর্তি ও সুনাম খর্বই নয় একই সাথে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনাম ক্ষুন্ন করছে শ্রমিক দল শহিদুল ইসলাম দুলাল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে রেজিস্ট্রেশন ফিসহ বিভিন্ন কৌশলে তাদের নিকট দাবী করে দুলাল,খেটে মানুষগুলো দিনশেষে একটু মাথা গুজার স্থান পাবে এমন আশায় ঘাম জড়ানো উপার্জিত সকল আয়ের টাকা তুলে দেন দুলালের গ্হাতে। পরে খোজ নিয়ে জানতে পারে দুলাল তাদের সাথে প্রতারণা করেছে।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানাগেছে গত ৫ ই আগষ্ট ২০২৪ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন তোপের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ময়মনসিংহ মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি এবং ভূয়া মুক্তি যোদ্ধা পরিচয় দানকারী শহিদুল ইসলাম দুলাল ময়মনসিংহ রেলওয়ে রোড স্টেশন এলাকায় রেলওয়ের সরকারি সম্পত্তি স্থানীয় এলাকার অসহায় হতদরিদ্র সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের মাঝে দলের নাম ভাঙিয়ে ইজারা এনে দেওয়ার নাম করে আনুমানিক ১৭ লাখেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া শহিদুল ইসলাম দুলাল নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি হিসাবে দাপট খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের দমভক্তি ছুড়ে খাগডহর সি এসিড গোডাউনে সাধারণ কুলি শ্রমিকদের কাছে বখরা আদায় সহ সিএসডি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর দলীয় প্রভাব বিস্তার সহ স্থানীয় বালু ঘাটেও প্রতিনিয়ত চাঁদা উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে । য়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের কান পর্যন্ত পৌছানো হয়েছে বলে জনশ্রতি রয়েছে । এলাকাবাসীর অভিযোগ- আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর শহিদুল ইসলাম দুলালের বিভিন্ন দম্ভোক্তি অপকর্ম ক্ষমতার দাপট চাঁদা উত্তোলন, অনিয়ম আর অবিচার অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়েই মনের ক্ষোভে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগডহর ঢোলাদিয়া কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়নি । এখানে ধানের শীষ প্রতীক পরাজিত হয়েছিলো বিপুল ভেটে, অথচ ১৯৮০ সালের পর কোন নির্বাচনেই ঢোলাদিয়া কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক পরাজিত হয়নি, এই বার ২০২৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক মাত্র শহিদুল ইসলাম দুলালের প্রতি ক্ষোব্দ হয়েই এলাকাবাসী ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়নি বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছে । স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে-শহিদুল ইসলাম দুলালের পিতা খাগডহর এলাকায় বিয়ে করার সুবাদেই দুলাল এখানে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে গড়ে উঠে এবং তার পরিবারে অনেকেই মাদক সেবী বখাটে হলেও তার অত্যাচারের আতঙ্কে কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়না ।

সুত্র মতে জানা গেছে শহিদুল ইসলাম দুলাল যদিও এখন ভাড়া বাসায় থাকছেন তার পরেও ইতিমধ্যেই প্রচুর অর্থের মালিক বনেগেছে। বিষয়টি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ময়মনসিংহ সদর ৪ আসনের সাংসদ সহ ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিকদল নেতৃবৃন্দ ময়মনসিংহ বিভাগীয় শ্রমিকদল নেতৃবৃন্দ ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ সর্ব মহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ও দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে সচেতন মহলে জোর দাবী উঠেছে।অন্যথায় এই দুলালের কারনে ময়মনসিংহে বিএনপির ভাবমূর্তি ও সুনাম খর্ব হবে বলে সচেতন মহলে মন্তব্য চলছে।

About Mizanur Rahman

Check Also

ময়মনসিংহ সদরের ঘাগড়া ইউনিয়নে চলমান উন্নয়ন কাজের পরিদর্শন করলেন ইউএনও-পিআইও

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপীর যোগদানের পর থেকেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!