Breaking News
Home / Uncategorized / ময়মনসিংহে সিভিল সার্জন অফিসে ঘুষ কেলেঙ্কারি, ভিডিও ফাঁস

ময়মনসিংহে সিভিল সার্জন অফিসে ঘুষ কেলেঙ্কারি, ভিডিও ফাঁস

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ না দিলে তিনি কোন কাগজ পত্রের ফাইল কর্মকর্তাদের কাছে পৌছান না,টাকা না দিলে ফাইল ছাড়েন না, টাকা দিলেই হয় কাজ—না দিলে ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। ভুক্তভোগী অভিযোগকারীরা জানান- ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কোন কাজ করতে গেলে স্টেনো টাইপিস্ট সুলতানের মাধ্যমে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের টাকা দিতে হয়, টাকা না দিলে উনারা কাগজ পত্রে স্বাক্ষর করেন না। সিনিয়র অফিসাররা সরাসরি টাকা নেন না সুলতানের মাধ্যমে নেন, তাই কাজ করতে গেলে সুলতানকে টাকা দিতে।

সম্প্রতি ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, নগরীতে গড়ে উঠা অবৈধ ক্লিনিক মালিকরা সুলতানের হাতে টাকার বান্ডল তুলে দিচ্ছেন আর সুলতান সেই টাকা গ্রহণ করছেন। এই ভিডিও ফাঁসের পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই ঘুষ বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে সাবেক সিভিল সার্জন ও স্বাচিপ নেতা সাইফুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।জাকির দীর্ঘদিন ধরেই এই অফিসে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও নেওয়া হয়নি কোন আইনি ব্যবস্থা। বর্তমানে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নাইটগার্ড থেকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে অবৈধভাবে পদোন্নতি পাওয়া জাকির হোসেন এবং সাবেক সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলাম এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তাদের প্রত্যক্ষ মদদ ও যোগসাজশে স্টেনো টাইপিস্ট সুলতান ময়মনসিংহ ক্লিনিক পাড়ায় দীর্ঘ দিন ধরে বেপরোয়াভাবে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটটি মূলত বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসানের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান কর্মকর্তাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা। ​সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাইফুল-জাকির সিন্ডিকেট ময়মনসিংহে তাদের হারানো আধিপত্য পুনরায় ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

​অনুসন্ধানে জানাযায়, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স নবায়ন ও বিভিন্ন অজুহাতে সুলতান সরাসরি টাকা লেনদেন করেন।

​একজন সরকারি অফিসের পিয়ন বা টাইপিস্ট কীভাবে দীর্ঘ দিন ধরে এমন সিন্ডিকেট চালিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা এই চক্রের বিচার এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে জানতে সিভিল সার্জন অফিস ময়মনসিংহের স্টেনো টাইপিস্ট সুলতানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​এ বিষয়ে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) সিভিল সার্জন ডাঃ ফয়সাল আহমেদ বলেন, স্টেনো স্টাইপিস্ট সুলতানের একটি ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন

About Mizanur Rahman

Check Also

ময়মনসিংহে সুদের টাকা না পেয়ে ইউপি উদ্যোক্তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর।। লুটপাট, স্ত্রী‌-সন্তানকে অপহরণের হুমকি ।

স্টাফ রিপোর্টারঃ সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ এর উদ্যোক্তার বাড়িতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!