Breaking News
Home / Uncategorized / কর্মমুখরতা মোমিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য-মুহাম্মদ শরীফুল আলম

কর্মমুখরতা মোমিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য-মুহাম্মদ শরীফুল আলম

  1. পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছেÑ ‘আর আমি তাকে তোমাদের জন্য বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদের যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করে; সুতরাং তোমরা
    কি কৃতজ্ঞ হবে না?’ (সূরা
    আম্বিয়া : ৮০)

উদ্যম সাফল্যের প্রতীক। সাফল্য কখনও উদ্যমীদের পিছু ছাড়ে না। তাদের কর্মমুখরতা ও সৃজনশীলতার মিষ্টি হাসি সবাইকে মুগ্ধ করে ও আপন করে নেয়।
ইসলাম কর্মমুখরতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনÑ ‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সূরা জুমুয়া : ১০)।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘তিনিই তোমাদের জন্য ভূমিকে সুগম করে দিয়েছেন; অতএব তোমরা তার দিগদিগন্তে বিচরণ করো এবং তার প্রদত্ত জীবনোপকরণ থেকে আহার্য গ্রহণ করো; পুনরুত্থান তো তারই নিকট।’ (সূরা মুলক : ১৫)।
আল্লাহর নবী হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা উপার্জন করতেন। তিনি লৌহবর্ম তৈরি করতে পারতেন। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছেÑ ‘আর আমি তাকে তোমাদের জন্য বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদের যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করে; সুতরাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না?’ (সূরা আম্বিয়া : ৮০)।
হজরত মিকদাদ ইবনে মাদিকারব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি নিজ হাতে উপার্জিত খাবারের চেয়ে উত্তম খাবার কখনও খায়নি।’ (মেশকাত : পৃ. ২৪১)।
আলস্য হচ্ছে ব্যর্থতার প্রতীক। অলস-অকর্মঠদের জীবনে আলো নেই। সাফল্য নেই। আছে শুধুই অন্ধকার। এরা কাজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকে পড়ে ভিক্ষাবৃত্তির দিকে। কেউবা নিষিদ্ধ নেশার দিকে। তাই আল্লাহর রাসুল (সা.) মানুষকে অলসতা ছেড়ে কাজ করে জীবিকা উপার্জনের শিক্ষা দিয়েছেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক আনসারি সাহাবি নবী (সা.) এর দরবারে এসে হাত পাতলেন। তখন নবীজি বললেন, তোমার বাড়িতে কি কিছুই নেই? তিনি বললেন, জি, আছে; একটি চট। আমরা তার কিছু অংশ পরিধান করি। আর কিছু বিছাই। আরেকটি পানপাত্র আছে, যাতে পানি পান করি। নবীজি বললেন, এ দুটি বস্তুই নিয়ে এসো। সাহাবি তা নিয়ে এলেন। রাসুল (সা.) তা হাতে নিয়ে ঘোষণা করলেন, এ দুটি জিনিস কে ক্রয় করবে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি এক দিরহামের বিনিময়ে তা ক্রয় করব। নবীজি বললেন, এক দিরহামের বেশি কে দেবে? এ কথাটি তিনি দুই-তিনবার বললেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি দুই দিরহামে তা ক্রয় করব। নবীজি তাকে দুই দিরহামের বিনিময়ে দিলেন। তারপর দিরহাম দুটি আনসারিকে দিয়ে বললেন, ‘এক দিরহাম দিয়ে খাবার ক্রয় কর এবং তা তোমার পরিবারের জন্য খরচ কর, আর এক দিরহাম দিয়ে কুড়াল ক্রয় করে আমার কাছে নিয়ে এসো। তিনি তাই করলেন। নবীজির কাছে কুড়াল নিয়ে এলেন। আল্লাহর রাসুল তাতে নিজ হাতে হাতল লাগিয়ে দিলেন। তারপর নবীজি বললেন, যাও, কাঠ কাটো এবং বিক্রি করো। আগামী পনেরো দিন যেন আমি তোমাকে না দেখি। তারপর এ সাহাবি গিয়ে কাঠ কেটে বিক্রি করতে লাগলেন। কিছুদিন পর এ লোক নবীজির দরবারে এলেন। এ কয়দিনে তিনি পনেরো দিরহাম উপার্জন করে ফেলেছেন। কিছু দিরহাম দিয়ে কাপড় ক্রয় করলেন। আর কিছু দিরহাম দিয়ে খাবার ক্রয় করলেন। তারপর রাসুল (সা.) বলেন, ভিক্ষাবৃত্তির কারণে কেয়ামতের দিন তোমার চেহারা বিকৃত হওয়ার চেয়ে এ কাজ উত্তম।’ (আবু দাউদ : ১৬৪১)। এভাবেই নবীজি তাকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে কর্মজীবনের দিকে ফিরিয়ে দিলেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজেও কর্মচঞ্চল ছিলেন। তিনি পরিবারের টুকিটাকি কাজ নিজেই করতেন। জুতার ফিতা লাগানো, কাপড় সেলাই করা, কাপড়চোপড় পরিষ্কার করা, দুধ দোহন করা ইত্যাদি ছোট ছোট কাজ করতে তিনি লজ্জাবোধ করতেন না। (মেশকাত : পৃ. ৫২০)।

লেখক : শিক্ষক, জামিয়া আরাবিয়া আহসানুল উলুম, ৭০/১, উত্তর আদাবর, ঢাকা

About Mizanur Rahman

Check Also

ময়মনসিংহের সিরতা ও পরানগঞ্জে উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করলেন ইউএনও-পিআইও

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোকে জনকল্যাণে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে স্বচ্ছতার সাথে এসব কাজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!