বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহ শহর আবারও কেঁপে উঠেছে এক নারকীয়, লজ্জাজনক, ও মানবতা-বিরোধী ঘটনায়। দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর, রাতের অন্ধকারে সভ্যতা আর আইনের চরম পরিহাসের এক নির্মম অধ্যায় রচিত হয়েছে নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ডের পালপাড়ায়। -গত ৬ মে ২০২৫, মঙ্গলবার, রাত আনুমানিক ১০ টায় তিন সন্তানের জননী এক মা, জীবনের তাগিদে বেরিয়ে-ছিলেন বন্ধু আলমগীরের বাসার দিকে কিছু আর্থিক সহায়তা পেতে। পথিমধ্যে পরিচিত ছোট ভাই আবু সাঈদের সঙ্গে দেখা হলে, সে তার সঙ্গে যেতে চায়। আর সেই ছোট্ট পথই হয়ে ওঠে নরকের প্রবেশদ্বার। পালপাড়া এলাকায় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা নজরুল ইসলাম (৪০), একজন সুদ ব্যবসায়ী ও অটোচালক, তার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রসহ অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নজরুল, যার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বহু অভিযোগ দীর্ঘদিনের! প্রথমে আবু সাঈদকে নির্মমভাবে মারধর করে। এরপর জনসম্মুখে উক্ত নারীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়- এমন পাশবিকতা, যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।
এই হামলায় অংশ নেয় আরও ৬ জন দুর্বৃত্ত:
১. অজিত পাল (২৩), পিতা: কৃষ্ণ পাল ২. আলামিন (২৫), পিতা: ফালু ৩. আনিস, পিতা: অজ্ঞাত-৪. জীবন (২৬), পিতা: অজ্ঞাত-৫. অভি (২১), পিতা: অজ্ঞাত (চুরির একাধিক মামলার আসামি)-৬. পাপ্পু (২৩), পিতা: অজ্ঞাত-৭. রিয়াদ (২০), পেশাদার চোর (একাধিক মামলার আসামি)-এই বর্বরতার পরপরই ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে চক্রের অন্যতম সদস্য জীবন! সে নির্যাতনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলে “যদি কোথাও মুখ খোলো, তোমাদের সামাজিক মৃত্যু নিশ্চিত!” ফলে ভুক্তভোগী নারী, আবু সাঈদ ও আলমগীর-
তিনজনই আজ পলাতক ও ভীতসন্ত্রস্ত এলাকাবাসীর ভাষ্যে, নজরুলের নেতৃত্বে এসব দুষ্কৃতিকারীরা দীর্ঘদিন ধরে পালপাড়া ও রেললাইন এলাকায় মাদকাসক্ত অবস্থায় চুরি, নারী নির্যাতন-সহ নানা অপরাধে লিপ্ত। আর প্রশাসনের নীরবতা তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে! প্রত্যক্ষদর্শীরা হলেন:- আবু সাঈদ (২৪), আলিয়া মাদ্রাসা মোড়ে যিনি অঙ্কুর ভাষার ভাড়াটিয়া ও পালপাড়া বিলপাড়ে হনু মিয়ার বাসায় থাকেন – আলমগীর (৩৪), “আমরা চাই সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করুক” -স্থানীয়রা বলছেন, “এখানে কেবল নারী লাঞ্ছনা নয়-এটা আমাদের সমাজ, ধর্ম ও বিবেকের ওপর সরাসরি আঘাত!”
আবু সাঈদ বলেন, “ওরা চোখে চোখ রাখে বলেই এমন অন্যায় চালায়! এবার যদি আইনের
দৃষ্টি না পড়ে, তাহলে আর কোথায় যাব?”
আইনজীবীরা বলছেন, ভিডিওতে যে বর্বর ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দণ্ডবিধির একাধিক ধারার আওতায় এই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার সম্ভব। বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও আইনের শাসনের টালমাটাল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, আদালত বা পুলিশের উচিত নিজ উদ্যোগে (সুয়োমোটো) এই মামলাটি গ্রহণ করা।”
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে