প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
একুশে পদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক, গীতিকার, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যান সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মীর মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এর রচয়িতা। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয় বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন। গাফফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশালের গ্রাম উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। গাফফার চৌধুরী বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, ইউনেস্কো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, স্বাধীনতা পদকসহ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’, ‘বাঙালি না বাংলাদেশী’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ৩০। এছাড়া তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে আছে ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’, ‘একজন তাহমিনা’ ও ‘রক্তাক্ত আগস্ট’।
বৃহস্পতিবার (১৯মে) এক শোকবার্তায় চিকিৎসক নেতা অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা বাঁক বদলের স্বাক্ষী আবদুল গাফফার চৌধুরী ছিলেন একাত্তরের মুজিবনগর সরকারের মুখপাত্র সাপ্তাহিক জয়বাংলার নির্বাহী সম্পাদক। ১৯৭৪ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করলেও মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে তার কলম সর্বদায় সোচ্চার ছিল ।
তিনি আরও বলেন,প্রবাসে থেকেও ঢাকার পত্রিকাগুলোতে তিনি যেমন রাজনৈতিক ধারাভাষ্য আর সমকালীন বিষয় নিয়ে একের পর এক নিবন্ধ লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, স্মৃতিকথা ও প্রবন্ধ।তিনি সাবলীল, বিশ্লেষণধর্মী ও কথনের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।প্রথিতযশা এ কলাম লেখকের মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাহিত্য জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল যা সহজে পূরণ হবার নয় ।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে