Breaking News
Home / Uncategorized / ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের ন্যায়বিচার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আহবান।।

ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের ন্যায়বিচার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আহবান।।

ডেসটিনি রিপোর্ট
প্রায় এক যুগের কাছাকাছি সময়, আমরা এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা ন্যায় বিচার পাব আমাদের মালিকপক্ষ কোন অপরাধ করেননি। হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে সাহায্য করুন। এমন সব সরল এবং বিনয়ী বাক্যবানে কম্পিত হয়ে উঠেছিল ডেসটিনির বিনিয়োকারী ক্রেতা পরিবেশকদের ঈদ পূর্ণমিলনী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান। ১২ই মে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটির মামলার রায়। বিনিয়োগকারীদের কাছে এই দিনটি ঐতিহাসিক, দীর্ঘ অপেক্ষার পর হলেও ভালো কিছু যে হবে, ন্যায়বিচার পাবেন তারা।

দৈনিক ডেসটিনির প্রকাশক, সম্পাদক, বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমিন, ডেসটিনি 2000 লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন একরকম বিনা বিচারেই জেল খাটছিলেন। অনেক লেখালেখি, মানববন্ধন হয় তাদের মুক্তির দাবি করে। এর মধ্যে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়ে কয়েক দফা রিট করা হয় হাইকোর্টে। অবশেষে চার্জশিট দাখিল করে দূদক। এরই ধারাবাহিকতায় তারা জেলে থাকা অবস্থায় এই মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা।
আজ আজমপূরস্থ ‘উওরা কমিউনিটি সেন্টারে’ এই ঈদ পূর্ণমিলনী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডেসটিনির বিনিয়োগকারী ক্রেতা পরিবেশক আয়োজক কমিটির আহবায়ক, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এর ট্রিপল ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ মোঃ সিরাজাম মুনির। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিএসডি গিয়াস উদ্দিন সবুজ। ঈদ পূর্ণমিলনী ও দোয়া মাহফিলের এই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন,ডেসটিনি 2000 লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডার মোঃ ইব্রাহিম খলিল লিটন, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল ইসলাম, ডেসটিনি বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশক ঐক্য ফোরামের সাবেক সভাপতি ও পিএসডি মোঃ আবুল হাছান,গো- ডায়মন্ড অ্যাসোসিয়েট এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম,দৈনিক ডেসটিনির উপ-সম্পাদক খাজা খন্দকার সুখদেব চন্দ্র দাস,মোঃ এ কে এম ফখরুল ইসলাম, নির্মল চন্দ্র ঘোষ, মোঃ বেলাল, আক্তার হোসেন মৃধা,শামীমা আক্তার সোমা, এস এম আলাউদ্দিন,এ,এইচ,এম রফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া,এম,এ আলী,মোঃ ওমর ফারুক,মোঃ শাহারিয়ার হোসেন,উজ্জ্বল তালুকদার,সুব্রত চক্রবর্তী,মোঃ শাহজালাল আনছারী,নির্মল ঘোষ, বিশ্বনাথ পোদ্দার,পরিমল কর,নাছিমা আক্তার,ফরিদা ইয়াসমিন ।
এ সময় বক্তারা কারাগারে অন্তরীণ থাকা ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ডেসটিনি যেন পুনরায় রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে, সরকারের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা। ঈদ পূর্ণমিলনী ও দোয়া মাহফিল থেকে তিনটি লিখিত দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীনের মুক্তি, রফিকুল আমীনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং রফিকুল আমীনের মাধ্যমে ডেসটিনি লিমিটেডকে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া।
বক্তারা বলেন, ডেসটিনির মালিকেরা কোন অপরাধ না করেও ১১ বছরের উপরে জেল খাটছেন, জামিন পাননি। প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার জামিন পাওয়া, সেই অধিকার থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মামলা হলে তা নিষ্পত্তি হতে এত সময় নেওয়া এটাও নজিরবিহীন। বক্তারা দেরিতে হলেও ১২ মে এ রায় ঘোষণাকে শুকরিয়া জানিয়ে বলেন, আমাদের মালিকপক্ষ ন্যায়বিচার পাবেন এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
বক্তারা আরো বলেন, ডেসটিনি দ্বারা আমরা ক্ষতিগ্রস্ত না, প্রতারিত না, ডেসটিনিতে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং হয় নাই। সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেসটিনির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং অন্যায়ভাবে আমাদের ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের কর্মসংস্থান কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমরা আজ মানবেতর জীবনযাপন করছি।
ডেসটিনির বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। যখনই ডেসটিনি একটি সফলতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে,তখনই একটি মহল ডেসটিনির সম্পদ লুটে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা নানাভাবে ডেসটিনি লিমিটেডের সম্পদ লুটে নিচ্ছে।
জানা গেছে,ডেসটিনি গ্রুপের ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরুর পর ২০১২ সালের মে পর্যন্ত ডেসটিনি-২০০০, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি (ডিএমসিএসএল) ও ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশনের (ডিটিপিএল) আয় ৫ হাজার ১২১ কোটি টাকা। এই অর্থ থেকে কমিশন ব্যয় ১ হাজার ৪৫৬ কোটি, ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ খাতে ৪১০ কোটি টাকা, পণ্য ক্রয়ে ৪২৫ কোটি টাকা, লভ্যাংশ ও সুদ পরিশোধে ২৬৪ কোটি, ২০০ অফিসের প্রশাসনিক ব্যয় ৪৩৭ কোটি, বৃক্ষরোপণে বিনিয়োগ ২২৩ কোটি, সম্পদ ক্রয় ও বিনিয়োগ খাতে ১৮৯০ কোটিসহ ব্যয় হয়েছে ৫১০৫ কোটি টাকা। ডেসটিনি গ্রুপের এই তিনটি কোম্পানির জমির পরিমাণ ৯৬৮ একর, ঢাকা শহরে অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮ বর্গফুট। এ ছাড়া বাণিজ্যিক অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ২৪ হাজার ৫৪৭ বর্গফুট। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেসটিনি গ্রুপের মোট সম্পদের বর্তমান মূল্য ৯ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে ৪৫ লাখ লোক ডেসটিনিতে বিনিয়োগ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কয়েক হাজার কোটি টাকার নিজস্ব স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে বলেও সম্মেলনে জানানো হয়। ডেসটিনির কর্মকান্ড-বন্ধ থাকায় লাখ লাখ মানুষ বিপাকে পড়েছে বলে জানান বক্তারা। এ জন্য রফিকুল আমীনকে মুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলে বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন বলেও মনে করেন তারা।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ডেসটিনির বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশকেরা সম্মেলনে উপস্থিত হন। এ সময় ডেসটিনির সম্পদ রক্ষা কমিটি, ডেসটিনি ওয়েমেন ফাউন্ডেশনসহ প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশকেরা বক্তব্য দেন।

About Mizanur Rahman

Check Also

ময়মনসিংহের সিরতা ও পরানগঞ্জে উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করলেন ইউএনও-পিআইও

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোকে জনকল্যাণে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে স্বচ্ছতার সাথে এসব কাজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!