আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই জাতির পিতার হত্যার বিচার করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশে যেমন মহাত্মা গান্ধী হত্যার সঠিক বিচার হয়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা খুনিদের সাথে আপোষ করেননি। বিচার না হলে আমরা কলঙ্কিত জাতি হয়ে থাকতাম। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের সেই কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছে।
তিনি সোমবার ১৭মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উদযাপন উপলক্ষে
ময়মনসিংহ চেন্বার অব কমার্সের হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি হওয়ার পরও খুনি, একনায়ক জিয়াউর রহমান তাকে দেশে আসতে বারণ করেছিলো। তিনি সেদিন নিজ বাড়িতে উঠতে পারেননি, আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, আমি সর্বহারা, আমি আপনাদের জন্য, দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলাম। তাকে এপর্যন্ত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে দেশকে ভালোবেসে, মানুষকে ভালোবেসে জাতির পিতার স্বপ্নের গণতান্ত্রিক উন্নত সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশে এসেছিলেন, দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেঃ আঃলীগের সহসভাপতি এড,কবীর ভূইয়া, জেঃ আঃলীগের সাঃসন্পাদক এড, মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের পরিচালনায় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেঃ সহ-সভাপতিল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ পাঠান,ময়মনসিংহ চেন্বার অব কমার্সের সভাপতি, FBCCi এর সহ সভাপতি ময়ঃ জেলা আঃলীগের সহ সভাপতি আমিনুল হক শামিম ও সহ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্তা।
মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে, রাজনৈতিক জীবনে ভয়াবহ দুর্দশা ছিলো। দেশে কোন গণতন্ত্র ছিলো না। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিলো, ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিলো। এদুটি ঘটনা একই ঘটনার ধারাবাহিক। তখন দেশ ও আওয়ামী লীগ করুন অবস্থায় ছিলো। তখন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে, আদর্শের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা আলোর দিশারি হয়ে দেশে আসেন। তিনি এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের মানুষকে জাগরিত করেছেন, ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে না আসলে আমরা এপর্যায়ে আসতে পারতাম না। সেদিন তিনি দেশে আসায় আমরা স্বপ্ন দেখতে পেরেছি। শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন জেলা আঃলীগের যুগ্মসন্পাদক আঃ কদ্দুছ, জেঃ,সাংগঠনিক সন্পাদক শওকত জাহান মুকুল,দপ্তর সন্পাদক দীন ইসলাম ফকরুল,বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মিরন চৌধুরী, যুব সন্পাদক রেজাউল হাসান বাবু, জেঃ আওয়ামীলীগের সদস্য ইমদাদুল হক সেলিম,জেঃ যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক প্রদীপ ভৌমিক, স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি নুরুক্জামান খোকন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত উসমান লিটন,শাহরিয়ার মোহাম্মদ রাহাত খান, ,জেঃশ্রমিকলীগ নেতা শাহীন রাকিক,আঃলীগ নেতা সোমনাথ সাহা, চেন্বার অব কর্মাসের সহ সভাপতি শংকর সাহা, আঃলীগ নেতা সেলিম প্রমূখ।
এসময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন- জাতির পিতা বলেছিলেন সোনার বাংলাদেশ গড়তে সোনার মানুষ চাই। আমরা সোনার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে পারি। দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে আসুন আমরা নিজেদের উৎসর্গ করি। শেখ হাসিনা ১৭ মে যেভাবে দেশকে ভালোবেসে, মানুষকে ভালোবেসে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন আসুন আমরাও তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের উৎসর্গ করি।
আলোচনা শেষে এড,মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের প্রস্তাবে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্যের জন্য ও ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের সাবেক সদস্য, ত্রিশাল উপজেলার বর্ষীয়ান আঃলীগ নেতা ফজলে রাব্বির সহধর্মীনি দিলরুবার(৬৫) পরলোক গমনে আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও এক-মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে