আল হাইয়াতুল উলইয়ার পরীক্ষা প্রত্যাহারে কোন যৌক্তিকতা আছে কি?
আমরা জানি দাওরায়ে হাদিসের সরকারী স্বীকৃতির বিষয়টি দীর্ঘ দিনের আন্দােলনের ফসল। শুরু থেকেই এর ফলাফল ভালো-মন্দ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা হয়েছে। প্রত্যেক পক্ষেরই গ্রহণযোগ্য যুক্তি রয়েছে। সে অনেক দীর্ঘ আলোচনা।
গত দু’দিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জেনেছি তাকমিল জামাতের অনেক ছাত্রভাই আল হাইয়াতুল উলইয়ার পরীক্ষা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি তাদেরকে একটু দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
তারা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন:
১. মোদি বিরোধী আন্দোলনে আমাদের কয়েকজন ভাই শহীদ হয়েছেন এবং তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরো অনেক ভাই শহিদ হয়েছেন। আমার জানামতে মোট ১৭ জন। আর আহত হয়েছেন শত শত। কিন্তু আল হাইয়ার কর্তৃপক্ষ কোন সমবেদনা প্রকাশ করেন নি।
২. অনেক ভাই হাসপাতালে আছেন, অনেক ভাই জেলে আছেন। তাদের রেখে আমরা পরীক্ষা দিব তা কীভাবে হয়?
৩। আল হাইয়ার পরীক্ষার কারণে বাজারে নোট বইয়ের ছড়াছড়ি হয়েছে যা আমাদের ইলমের গভীরতা নষ্ট করে দিচ্ছে।
৪। এই সরকারী স্বীকৃতি আমাদের কোন কাজে আসেনি। এটা আমাদের সাথে এক ধরণের তামাশা।
৫। আল হাইয়ার পরীক্ষার মাধ্যমে সরকার ধীরে ধীরে আমাদের ইসলামি চেতনায় হস্তক্ষেপ করছে। আমরা তাগুতি শয়তানি শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছি । ইত্যাদি।
ছাত্র ভাইয়েরা আলহাইয়ার পরীক্ষা প্রত্যাখ্যানের যে কারণগুলো উল্লেখ করেছেন তার উপর আমার কিছু কথা বলে রাখা প্রয়োজন মনে করছি।
প্রথম কথা হলো সরকারী স্বীকৃতি এটা কারো দান নয়, এটা আমাদের অধিকার। দীর্ঘ দিন তা থেকে বঞ্চিত ছিলাম । এখন আমরা পেয়েছি। আর এই হাইয়া কোন ব্যক্তি বিষেশের প্রতিষ্ঠান নয়। এটা আমাদের সবার। এর কর্তৃপক্ষ যদি এই শহিদদের প্রতি কোন শ্রদ্ধা বা সহমর্মিতা প্রকাশ না করেন তাহলে এটা তাদের অমানবিকতা। তারা চিরদিন এর কর্তৃপক্ষ থাকবেন না। তাহলে ব্যক্তি বিষেশের এই আচরণের কারণে (যদি হয়ে থাকে তাহলে) আমাদের অধিকার হারানো কি বুদ্ধিমানের কাজ?
যারা আহত বা জেলে আছেন তাদের জন্য পরবর্তীতে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে । ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি পরীক্ষা আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
নোট বইয়ের কারণে ইলমের গভীরতা হ্রাস পাওয়ার কথা যে বলা হয়েছে এক্ষেত্রে আমি বলবো নোট বইয়ের ছড়াছড়ি সত্যি দুঃখজনক । তবে নোট বই আগেও ছিলো। এখন বেড়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিলে নোট পড়া বন্ধ রাখতে পারে। তাছাড়া নোট তো একেবারে নিচের জামাত থেকেই আছে। শুধু যে তাকমিলে তাতো নয়। আর ইলমের গভীরতা হ্রাস পাওয়ার জন্য শুধু নোট পড়াই একমাত্র কারণ নয়। অধিক পরিমাণে মোবাইল ফেসবুকের নেশার কারণে মূলত আজ লেখাপড়ার পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে না। ফলে ইলমের নুর ও গভীরতা আসছেনা।
‘এই স্বীকৃতি আমাদের কোন কাজে আসছেনা’ বলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমি বলবো, যে সরকারের হাত ধরে এই স্বীকৃতি এসেছে তারা সর্বত্র ইসলামি শিক্ষা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী নয়। তাদের কিছু স্বার্থের কারণেই স্বীকৃতি দিয়েছে। যে কারণে বা যে উদ্দেশ্যেই দিয়ে থাকুক এটা আমাদের প্রতি তাদের অনুদান নয়। এটা আমাদের পাওনা। তবে পাওনা এখনো আমরা পুরোপুরি পাই নি। এ স্বীকৃতি যে কোন কাজে আসে না আমি তা বলবো না। তবে যে কাজে আসে তা একেবারেই সামান্য ও সীমিত।
ধরে নিন কোন কাজেই আসছেনা এ স্বীকৃতি। আগামী কালও যে আসবেনা এ কথা কীভাবে নিশ্চিত হলেন? আগামী কাল এ দেশ ইসলামী দেশ হতে পারে। তখন এর মান সহজেই উন্নয়ন করা সম্ভব। যদি আরো বিলম্বও হয় তবু সম্ভবনা রয়েছে তার মান অন্য কোন ভাবে উন্নয় করার। কিন্তু বর্তমানে কাজে আসছেনা বলে যদি তাকে প্রত্যাখ্যান করি তাহলেতো যা সম্ভবনা ছিলো তাও শেষ হয়ে গেলো । যাদের দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা এ স্বীকৃতি পেয়েছি তাদের শ্রম বৃথা গেলো।
বলা হচ্ছে হাইয়ার পরীক্ষার মাধ্যমে সরকার আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলছে। তাই তার স্বীকৃতি গ্রহণ করবো না ।
আচ্ছা সরকারী স্বীকৃতি কি শুধু সনদে? আপনার আইডি কার্ডে কি সরকারের স্বীকৃতি নেই? আপনার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদিতে কি সরকারের স্বীকৃতি নেই? আপনার হাতের মোবাইল, ইন্টারনেট, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ইত্যাদিতে কি তাগুতি শক্তির হাত নেই? আপনি কি তা ফেলে দিয়েছেন? ফেলে দেন নি। যদি বলেন, আমি তার ভালো দিকগুলো গ্রহণ করি মন্দ দিকগুলো থেকে বিরত থাকি । তাহলে আমিও বলবো স্বীকৃতিরও ভালো দিকগুলো আপনি গ্রহণ করতে পারেন এবং মন্দ দিক থেকে বেঁচে থাকতে পারেন।
আমার সকল মত সবার সাথে মিলে যেতে হবে এমন কোন কারণ নেই। তবে ভাবুকেরা ভাবতে পারেন।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে