মোঃ রফিকুল ইসলাম
আজ ১৯ জুলাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরম সতীর্থ রবীন্দ্রসঙ্গীতের স্বরলিপিকার,শান্তিনিকেতনের সংগীত বিভাগের সাবেক অধ্যক্ষ বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ শৈলজারঞ্জন মজুমদার এর জন্মদিন।নতুন প্রজন্মের কাছে এই গুণিজনকে পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান,সাবেক সিনিয়র সচিব,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ভাজন নেতা সাজ্জাদুল হাসান। তিনি বলেন,এই বরেণ্য ব্যক্তি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাহাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ভালো লাগছে আমার জন্মস্থানের এই বিখ্যাত ব্যক্তি কে আজকে স্মরণ করায়। একপর্যায়ে আমার পিতা মরহুম ডাক্তার আখলাকুল হোসেন আহমেদ প্রাক্তন গণপরিষদ সদস্য এর সাথে উনার সখ্যতা গড়ে ওঠে। তাই তাকে আরো কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। মনে পড়ে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে শান্তিনিকেতনে পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম।
সেখানে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এর পাঁচটি বাড়ি কোর্ণাক, উদয়ন,শ্যামলী,পুনশ্চ ও উদীচী ঘুরে ঘুরে দেখার সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে শৈলজারঞ্জন মজুমদারের বিভিন্ন ছবি দেখলাম। তখন আমার জন্মস্থানের এই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা ও আবেগে মন ভরে যায়। বিশ্বভারতীর সেসময়ের উপাচার্য শ্রীমতি সবুজ কলি সেন এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম আমরা অবশ্যই শৈলজারঞ্জন মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে উনার জন্মস্থানে একটা কিছু করবাে। শান্তিনিকেতন ঘুরে এসেই সেই উদ্যোগটা নিয়েছিলাম।
৩৯৬০.৪৯ লক্ষ টাকা টাকায় শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নামে প্রকল্পটি অনুমোদিত হলো। স্থপতি জনাব আসিফ সুন্দর করে নকশা প্রণয়ন করলেন। যেখানে রয়েছে তিন তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন,এম্ফিথিয়েটার, কনফারেন্স হল,গ্রন্থাগার, জাদুঘর,পুকুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সুন্দর সবুজ চত্বর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২ নভেম্বর ২০১৮ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন, যার উপর ভিত্তি করে কাজ এখন দ্রুত এগিয়ে চলছে। যা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। করোনার বিপর্যয় থেকে ইনশাল্লাহ আমরা মুক্তি পাবো।সেদিন বেশি দূরে নয় আমরা সকলে মিলে শৈলজারঞ্জন মজুমদার এর জন্মদিন পালন করব। এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি শিল্পী কলাকুশলীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে।দেশে এবং বিদেশে সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো জোরদার হবে। এই প্রত্যাশায় রইলাম।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে