ত্রিশাল প্রতিনিধি :: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নে কাজ না করেই চৌদ্দটি সরকারি প্রকল্পের প্রায় ৭৩লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে।
এই বিষয়ে ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম সম্প্রতি দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ম,২য় ও ৩য় পর্যায় টিআর, কাবিখা, কাবিটা কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ের ৯টি ওয়ার্ডে চৌদ্দটি প্রকল্পের বরাদ্দ হলেও বাস্তবে কোনো কাজ না করেই কাগজে-কলমে তা সম্পন্ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। জানা গেছে,ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মঠবাড়ী বাবুল মিলিটারীর বাড়ী হইতে রজব আলী মন্ডলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ,মঠবাড়ী কালু হাজীর বাড়ী হইতে বাচ্চু মেম্বার সাহেবের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ, ৫নং ওয়ার্ডে অলহড়ি দুর্গাপুর কাচা রাস্তা হইlতে জালাল সাহেবের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ,
৬নং ওয়ার্ডে কুঈাগাছা দুলালের বাড়ী হইতে রহমানের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ কাজের জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় তিন প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১২লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত এসব প্রকল্পের সভাপতি হিসাবে ২নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া, ৫নংওয়ার্ডে ইউপি সদস্য আক্রাম হোসেন ও ৬নং ওয়ার্ডে মোঃ রেজাউল হাসান প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।তবে
বাস্তবে প্রকল্পগুলোতো কোনো কাজ না করা হলেও তা সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে রয়েছে।
এছাড়াও টি আর প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের অলহরি দুর্গাপুর কাচা রাস্তা হতে জালাল সাহেবের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দকৃত ৩ লক্ষ, ৭নং খাগাটি রেজ্জাকের বাড়ী হতে জলিলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দকৃত ৩লক্ষ টাকা,৩নং ওয়ার্ড অলহরি দুর্গাপুর মধ্যপাড়া কবরস্থানে মাটি বরাট কাজের জন্য বরাদ্দকৃত ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা, ৯নং ওয়ার্ড রায়মনি পশ্চিম পাড়া পাঞ্জেখানা মসজিদ সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা, ৮নং ওয়ার্ডের খাগাটি মজিদের বাড়ী হতে বেরিবাদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা, কাবিখা প্রকল্পের আওতায়- ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অলহরি মধ্যপাড়া জয়দা পাকা হইতে মাবে ডাক্তারের বাড়ি মোর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্ধকৃত তিন লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা, ১নং ওয়ার্ডে মঠবাড়ি দূরদুরিয়া পাকা রাস্তা হইতে খান বাড়ির পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা,৭নং ওয়ার্ডের খাগাটি নছিবাড়ি হইতে আব্দুল হাই এর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, ২নং ওয়ার্ডের মঠবাড়ী বাবুল মিলিটারি বাড়ী হইতে রজব আলী মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ হাজার টাকাসহ কাবিখা,কাবিটার আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ কাজ না করে প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্যরা লুটপাট করে নিয়েছে বলে অভিযোগে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তাগুলো আগে যেরকম ছিল, এখনও সেরকমই রয়েছে। কোনো কাজ হয়নি। কুড়াগাছা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী থাকায় ২৪-২৫ অর্থ বছরে সরকারি বরাদ্দের কাজগুলোর মাঝে কোন স্বচ্ছতা নেই। এলাকার মেম্বাররা আশ্বাস দিয়ে কোনো কাজ করেন না। এবার তো কাজ না করেই টাকা তুলে নিয়েছেন।” আরেক বাসিন্দা মোঃ মমিন মিয়া বলেন, “এই রাস্তায় আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়। বর্ষায় পানি উঠে চলাচল অসম্ভব হয়। বহুবার অনুরোধ করেছি, এমনকি দাওয়াতেও ডেকেছি, তবুও কাজ হয়নি। এখন শুনি টাকাই তুলে নিয়েছে!” আব্দুল খালেক নামে আরেকজন বলেন, “আমরা এমনিতেই অবহেলিত। তার ওপর যে কাজ হওয়ার কথা, সেটাও না করে টাকা আত্মসাৎ হলে আমাদের অবস্থা কী হবে?” স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ করার সাহস না পায়।
তবে অভিযোগ সম্পর্কে মঠবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আক্রাম হোসেন,বাচ্চু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া গেলেও এক ইউপি সদস্য বলেন, “আমি এসব প্রকল্পের কোনোটিরই সভাপতি না। অথচ আমাকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যারা প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা কাজ করেই টাকা উত্তোলন করেছেন। এসব কাজের মনিটরিং করেছে জেলা ও উপজেলা মনিটরিং কমিটি। মনিটরিং ছাড়া তো টাকা উত্তোলন করা যায় না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন তাকে পাওয়া যায়নি।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে