স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস,দুর্নীতি, ইভটিজিং, সুদ ও ঘুষসহ নানা সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল।
রবিবার (৪মে) দুপুরে উপজেলা দাপুনিয়া বাজারে দাপুনিয়া-ঘাগড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ ও স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের যৌথ উদ্যোগে মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, জুয়া,যানজট এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উক্ত মানববন্ধনের আয়োজন করে। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ সফিকুল ইসলাম খান।
মানববন্ধন শেষে শান্তিপূর্ণ একটি প্রতিবাদ মিছিল বাজারের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ইমাম, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সমাজে মাদকের সহজলভ্যতা ও দুর্নীতির বিস্তার আজ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভর করে এই ব্যাধি নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিবেশী সবাইকে সচেতন ও দায়িত্ববান হতে হবে।
দাপুনিয়া বাজার ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে তরুণদের সচেতন করতে হবে এবং তাদের যথাযথ কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে।”
মাদ্রাসা এর শিক্ষক বলেন, “মাদক ও ইভটিজিং সমাজের ভিত নষ্ট করে দেয়। এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই আজকের এই আয়োজন।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সোচ্চার হন ‘মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, ‘ইভটিজিং বন্ধ করো’, ‘সুদ-ঘুষের শিকল ছেঁড়ো’—এমন সচেতনতার বার্তায়।
আয়োজকদের মতে, এই আয়োজন শুধু প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং এটি স্থানীয় জনগণের মাঝে পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সামাজিক ঐক্য ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সুন্দরগঞ্জ হবে নিরাপদ ও সচেতন সমাজের মডেল।
ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, সমাজকে ভালো রাখতে মাদক, জুয়া, চুরি, জঙ্গীবাদ, কিশোর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম, নারী নির্যাতন ইভটিজিং ও বাল্য বিবাহ সহ যে কোন অপরাধ নির্মুল করতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনগণকে অপরাধীর বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগীতা করার আহবান জানিয়ে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন-আপনারা প্রতিটি এলাকায় একটি করে কমিটি করেন। যে কমিটিতে নবীন প্রবীন সবাই থাকবে। যেখানেই মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই হবে সেখানেই প্রতিরোধ করবেন। তবে কাউকে মেরে ফেলবেন না। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে আছি। অন্যায় কারীকে আইনের মাধ্যমে শাস্তি দিবেন। দুষ্কৃতিকারীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিবেন।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে