Breaking News
Home / Uncategorized / রোপিত বৃক্ষকে পরিচর্যা করা সকলের দায়িত্ব- ময়মনসিংহে চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন।

রোপিত বৃক্ষকে পরিচর্যা করা সকলের দায়িত্ব- ময়মনসিংহে চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন।

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আশরাফ হোসাইন বলেছেন, মুজিব বর্ষের কর্মসূচিসহ গত এক বছরে বন বিভাগের মাধ্যমে উপজেলায় হাজারের অধিক বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এসকল বৃক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, কার্বন নিঃসরণ প্রশমণ, অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি, খাদ্য-পুষ্টিসহ উপজেলার বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি সহ দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বৃহস্পতিবার (৩০সেপ্টেম্বর) সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অষ্টধার ইউনিয়নের কাউনিয়া ছালামের বাড়ীর নিকট ব্রীজ থেকে কায়দাপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্ভোধন শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা,ইউপি চেয়ারম্যান তারেক হাসান মুক্তাসহ সকল ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, মুজিববর্ষে চারা রোপণের পাশাপাশি চলতি বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।এছাড়াও জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা উপজেলায় রোপণের জন্য বিতরণ করা হয়েছে।এসকল গাছের সঠিক পরিচর্যা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও যথাসময়ে আমরা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৬ জুলাই গণভবণ প্রাঙ্গণে ১ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে পরিকল্পনামতো সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণের সহযোগিতায় চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কোথায়, কী পরিমাণ বৃক্ষের চারা কখন, কিভাবে, কাদের মাধ্যমে বিতরণ এবং রোপণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত ডাটাবেজ বন বিভাগে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ২০,৩২৫টি করে ৪৯২ টি উপজেলায় মোট ১ কোটি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা বন বিভাগের নার্সারীসমূহে উত্তোলন করে রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছে সরকার। যে সমস্ত উপজেলায় বন বিভাগের নার্সারি নেই, সেক্ষেত্রে পাশ্ববর্তী উপজেলায় এ চারা উত্তোলন করা হয়। এলাকাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী চারার প্রজাতি নির্বাচন করা হয় এবং ৫০শতাংশ এর অধিক ফলের চারা উত্তোলন করা হয়। উক্ত চারাগুলো মধ্যে ৪০টির অধিক বৃক্ষপ্রজাতি রয়েছে। তন্মধ্যে চিকরাশি, চাপালিশ, কড়ই, মেহগনি, কদম, গামারি, জারুল, বকুল, সোনালু, হিজল, মহুয়া, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি বনজ প্রজাতি রয়েছে। এছাড়া জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আমড়া, জলপাই, কাঠ বাদাম, বেল, তেঁতুল, চালতা, লটকন ইত্যাদি ফলদ প্রজাতি ও আমলকী, হরিতকী, বহেরা, অর্জুন ইত্যাদি ঔষধি প্রজাতির চারা উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এক নতুন মাত্রায় গতি লাভ করেছে। বনবিভাগ রোপিত চারাসমূহ বৃক্ষে পরিণত হলে আগামী ৫ বছর জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপজেলাভিত্তিক বৃক্ষ আচ্ছাদন পরিমাপের উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। গাছের বেড়, উচ্চতা ও এতদঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য হিসাব প্রয়োগ করে বৃক্ষে জমাকৃত কার্বন পরিমাপ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এতদ্বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আশরাফ হোসাইন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ একটি স্মারক নিদর্শন হয়ে থাকবে। বৃক্ষ, পরিবেশ এবং প্রতিবেশ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ এবং করোনা মহামারীর মধ্যেও নিজ হাতে বৃক্ষের চারা রোপণ করে উৎসাহ দেয়ায় তাঁর প্রতি আমাদের সীমাহীন কৃতজ্ঞতা এবং আন্তরিক ধন্যবাদ রইলো। এ কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চেয়ারম্যান উপজেলার বন ও বন্যপ্রাণী তথা পরিবেশ, প্রতিবেশ রক্ষায় তাঁদের এমন আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরাধিকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এখন আমাদের সকলের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সকলে সম্মিলিতভাবে প্রকৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাজ করলেই আমরা আমাদের উপজেলা তথা দেশের পরিবেশ উন্নত করতে পারবো।

About Mizanur Rahman

Check Also

দালাল মুক্ত ভূমি অফিস করতে কাজ করছেন ভূমি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান

স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস দালাল মুক্ত বললেন ভূমি কর্মকর্তা। সম্প্রতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!