মোঃ আরিফ রব্বানীঃ
ময়মনসিংহের সদর উপজেলার কুষ্টিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডকে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাদাঁবাজ, বাল্যবিবাহ মুক্ত করে উন্নত ও আধুনিক ওয়ার্ড গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে কঠোর অবস্থানে থেকে ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি গ্রামাঞ্চলের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন এবং গরিব-দুস্থদের জন্য বরাদ্ধকৃত ভিজিডি,বিধবা ও বয়স্ক, পঙ্গু সহ বিভিন্ন ধরণের সরকারী ভাতা প্রকৃত ভোক্তভোগীদের বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রদানসহ
ওয়ার্ডবাসীর নাগরিক চাহিদা পুরণে ব্যাপক নিরলস ভাবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান- ২ মোঃ তাজুল ইসলাম।
ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি সকল ষড়যন্ত ও অপশক্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে মোকাবেলা করে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা প্রয়োগ করে উন্নয়ন কার্যক্রমকে তরান্বিত করেছেন। তার মেধা সততা ও আদর্শকে কাজে লাগিয়ে সকল চক্রান্তকে কঠিন হস্তে দমনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের চিন্তা ধারা ডিজিটাল বাংলার অন্তর্গত ওয়ার্ড গড়ার লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কাবারিয়াকান্দা এছাক চেয়ারম্যান এর বাড়ির সামনে ইউডেন নির্মাণ, বিদ্যাগনজ হতে লতিফ ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এইচ বি বি সোলিং করনের উন্নয়ন কাজসহ বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করাসহ সরকারের টিআর,কাবিখা,কাবিটাসহ সকল উন্নয়ন ধারাকে বাস্তবায়নে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে ওয়ার্ডে সিংহভাগ উন্নয়ন সম্পন্ন করেছেন যা বিগত বছরগুলোতে সম্ভব হয়নি। যেসব এলাকা দিয়ে বাইসাইকেল নিয়ে চলাচলে মানুষের জন্য কঠিন অবস্থায় ছিল সেসব এলাকার রাস্তা-ঘাট দিয়ে ওয়ার্ডবাসী বর্তমানে থ্রী-হুইলার যানবাহন সহ যেকোনো ধরনের গাড়ী নিয়ে চলাফেরা করতে পারছে অনায়েশে। যার দৃষ্টান্ত বিদ্যাগনজ হতে লতিফ ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এইচ বি বি সোলিং রাস্তাসহ আরো একাদিক রাস্তা। বর্তমানে করোনাকালেও মানুষকে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতন করা ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ওয়ার্ডের উন্নয়নে থেমে নেই মেম্বার তাজুল ইসলাম । তার পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ইউনিয়নের পূর্বের তুলনায় বাল্যবিবাহ কমে যাওয়াসহ এলাকায় জুয়া, চুরি-ডাকাতিসহ নানাবিধ অপরাধ নির্মুল করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। গত ২০১৬সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ওয়ার্ডের উন্নয়নে রাস্তাঘাট, বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা,
কালভাট,প্রকৃত উপকার ভোগীদের মাঝে বয়স্ক,বিধবা প্রতিবন্ধী সহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড ও সরকারী সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করার পাশাপাশি ওয়ার্ডকে আধুনিক এলাকায় গড়ে তুলতে ওয়ার্ডবাসীর দোরগোড়ায় তাদের প্রাপ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লাকে মাদক,বাল্যবিবাহ,ইভটিজিং মুক্ত করার মাধ্যমে স্বচ্ছ,পরিচ্ছন্ন,মাদক মুক্ত উন্নত এলাকায় পরিণত করে জনগণের বাসযোগ্য এলাকা গড়তে শ্রম দিচ্ছেন তিনি।
মেম্বার তাজুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমি জনগনের রায়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। এটা মানুষের ভালবাসা। নির্বাচিত হওয়ার পর সবার সহযোগিতায় নাগরিক সেবার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করেছি। বিদ্যাগঞ্জ কে পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নে ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় অবস্থিত প্রতিটি অবহেলিত ও গুরুত্বপুর্ণ রাস্তাগুলো চিহ্নিত করেছি। ওয়ার্ডকে আলোকিত করতে প্রতিটি পাড়ার মূল সড়কগুলোতে বাতি স্থাপন ও বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে । ইটের সোলিং ও নতুন রাস্তা নির্মাণসহ ওয়ার্ডের সব রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। ওয়ার্ডের প্রতিটি মসজিদ ও মন্দিরের সংস্কার করার পরিকল্পনা নিয়ে সিংহভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া গরিব-দুস্থ-বিধবা ও বয়স্ক ভাতা প্রদানসহ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বেশীরভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি ওয়ার্ডের মেম্বার নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। জনগন আমাকে মেম্বার নির্বাচিত করে প্রমাণ করেছে তারা আমাকে অনেক ভালবাসে। তাই আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নাই। আমার কাজ শুধু জনগণের সেবা ও ওয়ার্ডের উন্নয়ন। জনগণের সেবায় বিন্দুমাত্র ত্রুটি রাখতে চাই না। আমি চাই আমার এলাকার জনগণের মনের মধ্যে জায়গা করে নিতে। আমি মেম্বার হওয়ার পর থেকে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে গতি ফিরিয়ে এনেছি। সমাজে মাদক,চুরি,ছিনতাই,ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ নির্মুলের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। মানুষকে এখন আর সেবা পাওয়ার জন্য ঘুরতে হয় না, বরং সেবা মানুষের দোয়ারে-দোয়ারে ঘুরে। ভোগান্তিবিহীন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে যে দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন আমিও চেষ্টা করছি তার প্রতিদান দিতে। চেষ্টা করছি মানুষকে আরও ভালো সেবা দিতে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ওয়ার্কওয়ে ও বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে ওয়ার্ড কে দৃশ্যমান হিসাবে গড়ে তুলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে । অপরাধ নির্মুলের মাধ্যমে শান্তিপুর্ণ ওয়ার্ড গঠনে প্রতিটি পাড়া এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া যে রাস্তাগুলোর বর্তমানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে তা দ্রুত সম্পন্ন করা এবং শিশুদের খেলাধুলার জন্য ওয়ার্ডে অবস্থিত মাঠগুলোও সংস্কার করা হবে। খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতাসহ খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ওয়ার্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিটি পাড়া মহল্লার রাস্তাঘাট,কালভাট,ব্রীজ সংস্কার ও নির্মাণ করা আর এ জন্য প্রয়োজন হয় প্রকল্পের। যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প পাওয়া যায় তবে রাস্তাঘাট গুলো সংস্কার করা সম্ভব হবে। আগামীতে এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরো এগিয়ে নিতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে