আরিফ রববানী,(ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষা রাখার লক্ষ্যে ” নিজে মাস্ক পড়ুন এবং অন্যকে মাস্ক পরিধানে উৎসাহিত করুন ” এই শ্লোগান নিয়ে ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সারা জেলায় বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে
মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। সামাজিক দায়বদ্ধতায় মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ব্যানার, স্টিকার, ফেস্টুন, তথ্য সম্বলিত লিফলেট প্রচারণায় ময়মনসিংহে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এই ক্যাম্পেইন চলাকালে নগরজুড়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আমেজ বিরাজ করে। ক্যাম্পেইনে ৩০ হাজার পয়েন্টে মাস্ক বিতরন করা হয়। শুধু ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নয় সব সময় যেন করোনার সংক্রমণ রোধে মানুষ মাক্স ব্যবহার বাধ্য হয় সে কারণে চালানো হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। সবকিছু মিলিয়ে ময়মনসিংহ বাসিকে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্ট্রং অ্যাকশনে ডিসি মিজানুর রহমান পরিচালিত ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। ২৯ শে নভেম্বর রবিবার রবিবার মাক্স ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করার পর ৩০শে নভেম্বর সোমবার থেকে সাধারণ মানুষকে মাক্স পড়তে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনে ভাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছেন তিনি। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নাই মাক্স এর ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সোমবার ময়মনসিংহ নগরীর ১১গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে পরিচালিত এসব অভিযানে জেলায় প্রায় ৪০টি মামলায় মাস্ক ব্যবহার না করা ও স্বাস্থ্য বিধি না মানার অপরাধে বিভিন্ন আইনে ১৮২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলার হালুয়াঘাটে মাস্ক পরিধান না করা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার দায়ে ১০ জনকে ১ হাজার ৮০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।সোমবার দুপুরে উপজেলার পৌরশহর এলাকার কাচারি রোড এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় পথচারী বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে এ জরিমানা করেন
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর আহমেদ এ সময় পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও পরিধান করার জন্য নির্দেশনা দেন তিনি। মুক্তাগাছা উপজেলায় দুল্লা ইউনিয়নের চেচুয়া এলাকায় মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকরণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়৷ এ সময় সকলকে সচেতন করা হয় মাস্ক পরিধানের জন্য। একই সাথে মাস্ক না পরার অপরাধে ৭টি মামলায় ৭ জনকে ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় পথচারীদেরকে মাস্ক বিতরণ করা হয়।
অপরদিকে ত্রিশাল উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড)তরিকুল ইসলাম তুষারের আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে-করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে এবং জনগণকে মাস্ক পরিধান করতে উদ্বুদ্ধ করতে ত্রিশালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন তিনি। এসময় মাস্ক পরিধান ব্যতীত বাইরে ঘোরাঘুরি করার অপরাধে ১০ টি মামলায় ১০জনকে ৭৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুসারে ১ জন ব্যক্তিকে ৫০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এসময় সাধারণ জনগণের মাঝে বিনামূল্যে ২০০ টি মাস্ক বিতরণ করা হয়।
করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে এবং জনগণকে মাস্ক পরিধান করতে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারীর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩মামলায় ৬০০/, নিকহাত আরা নেতৃত্বে ২মামলায় ৭০০/, জিনিয়া জামানের নেতৃত্বে ৪ মামলায় ৪০০/,মনোরঞ্জন বর্মন এর নেতৃত্বে ২ মামলায় ৪০০/ ঈশ্বরগঞ্জে চারজনকে ১০০০/ সহ
জেলায় প্রায় ৪০টি মামলায় মাস্ক ব্যবহার না করা ও স্বাস্থ্য বিধি না মানার অপরাধে বিভিন্ন আইনে ১৮২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালানার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশ হক জানান, সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।তিনি বলেন-অভিযান কিংবা মোবাইল কোর্ট মুখ্য বিষয় নয়, বরং জনতার সচেতনতার স্বার্থে,স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে,পরিবারকে সুস্থ রাখার স্বার্থে মাস্ক ব্যাবহার করা সকলেরই নিজের দায়িত্ব। জীবন আপনার। সুস্থ রাখার দায়িত্ব আপনার।কাজ করেন,উপার্জন করেন।কিন্তু মাস্ক ব্যবহার করেন
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক জানান- করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে