স্টাফ রিপোর্টারঃ
কিছু ক্ষেত্রে প্রকাশ দান করা জায়েজ।
কেন জানেন তা দেখে আরও ১০ জনে উৎসাহিত হবে….
গোপন প্রকাশ এর ব্যাপারটা হল আপনি তো বলে দেন নাই তাই প্রকাশ করা যাবে। যদি বলতেন প্রকাশের কথা তবে সমস্যা ছিল তা হলে বুঝা যেত আপনার ভিতরে অহংকার আছে। আল্লাহ তো আপনার মনের খবর জানেন।
ফরজ সাদকা তথা জাকাত প্রকাশ্যে আদায় করলে তাতে ২৫ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়।
তাবুক যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদেরকে যুদ্ধের জন্য সাহায্য দিতে বললেন।প্রত্যেক সাহাবিই সাধ্যমত দান করলেন। কিন্তু হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সব সম্পদের অর্ধেক দান করলেন। হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সর্বস্ব প্রিয়নবির সামনে পেশ করলেন।
প্রিয় নবি হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ওমর!কি নিয়ে এসেছ?হজরত ওমর বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ!
আমার যা কিছু ছিল তা সমান দু’ভাগ করে একভাগ আমার সন্তানদের জন্য রেখে এসেছি।আর বাকি অর্ধেক আল্লাহর রাহে ব্যয় করার জন্য নিয়ে এসেছি।
এবার প্রিয়নবি হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু বকর!কি নিয়ে এসেছ? তিনি উত্তরে বললেন, ‘আমার যা কিছু ছিল তার সর্বস্ব নিয়ে এসেছি।প্রিয়নবি বললেন, তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য কি রেখে এসেছ?
হজরত আবু বকর জানালেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই আমার পরিবার-পরিজনের জন্য যথেষ্ট।হজরত আবু বকরের এ কথা শুনে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, আল্লাহর শপথ!আমি যখনই যে কাজের ইচ্ছা করেছি, হে আবু বকর সিদ্দিক!তখনই আপনাকে অগ্রগামী পেয়েছি।
একটা কথা মনে রাখবেন কালেকশান মাঝে মধ্যে প্রকাশে দিবেন। আর দান, সদকা গোপনে করবেন। আমাকে যা দিলেন তা সদকা নয়।এখানে আপনিই লক্ষ করুন যদি প্রথম ৫০০ টাকা না দিতেন তবে এখন পর্যন্ত এক টাকাও উঠিত না না।
মনে করুন! আপনি এক জনকে দান করবেন তা গোপনে, আপনি এতিমকে দান করবেন তা গোপনে, আপনি গরিবকে দান করবে তা গোপনে। যখন আপনি কালেকশান দিবেন তখনও যদি গোপনে দেন তবে মসজিদ মাদ্রাসায় কাজ কম হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আর আমরা ২ টাকে একত্র করে সবাই বলতেছি গোপনেই উত্তর।
অবসর সময়ে যখন আপনি ফ্রী থাকেন তখন এ আয়াটা আস্তে আস্তে পড়বেন তবে নিজেই বুঝতে পারবেন”যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর,তবে তা কতই না উত্তম।আর যদি দান গোপনে কর আর অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম।
আল্লাহ তোমাদের কিছু গুনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্মের খুব খবর রাখেন।”
সুরা বাকারা, আয়াত ২৭১।
এখানে কি বলা হচ্ছে অভাবগ্রস্তদের যখন দিবেন তখন গোপন রাখার হিকমত কি??যেন লজ্জা না পায় এ রকম আরও কারন আছে বুঝে নিবেন।
ইতিহাস স্বাক্ষী ঢোল পিটিয়েও জাকাত আদায় করা হয়েছে, এখন বুঝোন আমরা ২ টা এক করে বলি কি না আমার দান গোপন রাখিয়েন?এই একটা বিষয় মানুষদেরকে বুঝাতে পারলনা আলেম সমাজ?
আজ গোপনে গোপনে বলতে বলতে গ্রামের মসজিদের দান বাক্সে মিলে অনেক কাটা ছিড়া ২ টুকরো পঁচা টাকা
এ অকেজো র্দুবল অচল টাকা (মাল) দিয়ে কি নেকি পাওয়া যাবে। মুমিনদের জান-মাল আল্লাহ ক্রয়
করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে:
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّـﻪَ ﺍﺷْﺘَﺮَﻯٰ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢْ ﻭَﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻬُﻢ ﺑِﺄَﻥَّ ﻟَﻬُﻢُ
ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ۚ ﻳُﻘَﺎﺗِﻠُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّـﻪِ ﻓَﻴَﻘْﺘُﻠُﻮﻥَ ﻭَﻳُﻘْﺘَﻠُﻮﻥَ ۖ
“আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে,তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।”(সূরা তাওবা: ১১১)।
আমি বলছি না যে গোপনে দান চেড়ে দিন। গোপনেই সর্ব উত্তর, কিন্তু প্রকাশ্য কি জায়েজ নেই?? শেষে আর একটা বিষয় লক্ষ করুন হে মোমিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের (নামাজের) নিকটবর্তী হয়ো না। (সূরা নিসা, আয়াত-৪৩)
এ আয়াতেও মদ নিষিদ্ধের কোনো ব্যাখ্যা ছিল না, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়ার নিষেধাজ্ঞা ছিল, মদ নিষিদ্ধ বলা হয়নি। পরে একেবারেই হারাম। আর একটু বুঝুন ইসলামের প্রথম যুগে নবী (সাঃ) প্রথমে নামাজ, রোজার, কথা বলেন নাই বলেছেন
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র ঘোষণা দেয় এবং এরই উপর মৃত্যুবরণ করে, তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’(মুসলিম : ১/২৬)। এবার কি বুঝলেন যখন সবাই দেখল নামাজের আগে মদ পান করি না এতে অনেক ভালো লাগে, যদি একেবারেই চেড়ে দেই তবে তো উত্তর হবে।তখন আয়াত নাজিল হল সারা জিবন মদ হারাম। যখন কালিমা পড়ে মুসলিম হল তখন দেখল মুসলমানদের মধ্যে কত শান্তি তখন তাকে আরও ফরজ দেওয়া হল। আমি বলতে চাই আমাদের সমাজের কত জন শতকরা দান করে?? এদেরকে একটু প্রকাশে দান করে শিক্ষা দেওয়ার দরকার আছে কি না বলেন??
(বিঃ দ্রাঃ- এক ছোট ভাই আমার মাদ্রাসার কাজটিতে ৫০০ টাকা দান করে গোপন রাখার কথা বললে তাকে কোরআন হাদিস দিয়ে এভাবে বুঝালাম পরে এখন সবগুলো কথা একত্র করিলাম এ নিয়তে আমার কথায় কি ভূল আছে কি না?)
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে