স্টাফ রিপোর্টার:দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে পানিবন্দী অবস্হায় জীবন যাপন করছে অনেক অসহায় মানুষ। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবানদের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়া বিবেকের দাবি এবং ধর্মের শিক্ষা। টাকা-পয়সা, খাদ্য, বস্ত্র, পানি, ঔষুধসহ যার যা কিছু আছে, তা নিয়েই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ানোর প্রতিদান সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের দানের দৃষ্টান্ত হলো- যেমন একটি শস্য বীজ বপন করা হলো এবং তা থেকে সাতটি শীষ উৎপন্ন হয়েছে আর প্রত্যেক শীষে রয়েছে একশটি শস্য কণা। এমনিভাবে মহান আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে প্রাচুর্যতা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় জ্ঞানময় (সূরা বাকারাহ, আয়াত : ২৬১।)
জলীলুল কদর সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (দ.) ইরশাদ করেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্যে করবে, মহান আল্লাহ তায়ালা ততক্ষণ তাকে সাহায্য করতে থাকবেন।’ (মুসলিম।)
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, বান্দা যেভাবে ভাইয়ের বিপদের সাহায্যকারী হয়েছে, মহান আল্লাহ তায়ালা ও তার বিপদে দুনিয়া আখিরাতে উত্তম সাহায্যকারী হবেন। সাধ্যমতো মানব সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা ধর্ম ও মানবিকতার দৃষ্টিতে অত্যন্ত মর্যাদপূর্ণ কাজ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (দ.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানব সেবায় তার ভাইয়ের সঙ্গে চলে, ওই কাজ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা ৭৫ হাজার ফেরেশতা দিয়ে তাকে ছায়া দান করেন। তারা তার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে থাকে। তার প্রত্যেক কদমে একটি গোনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। (আত তারগীব।)
বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ঔষুধপত্রের অভাবে তারা ভাল চিকিৎসা পাচ্ছে না। তাই জরুরি ভিত্তিতে বন্যা আক্রান্ত এলাকায় মানবেতর জীবনযাপনরত বানভাসি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ তৎপরতা, শুকনা খাদ্যসামগ্রী প্রদান, আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত জরুরী।
হজরত আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (দ,) বলছেন, ‘তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো। আকাশের মালিক আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন।) হজরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (দ.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই! মহান আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন, যে তার বান্দাদের প্রতি দয়া করে।’ (বুখারী ও মুসলিম।) হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (দ.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের সেবা ও উপকারের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা কিছু নিবেদিত প্রাণ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ বিপদে পড়লে তাদের সরানপন্ন হয়। এসব রহম দিল ব্যক্তিরা আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকবে। (আত-তারগীব।)
যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বিপদগ্রস্ত ও দুস্থ মানবতার কল্যাণের জন্য দান-খয়রাত, জাকাত-সাদাকা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন না; সমাজের অসহায় বিপন্ন, বন্যাদুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত নিঃস্ব অর্ধাহারী-অনাহারী নিরন্ন গরিব মানুষের অভাব দূর, ক্ষুধা নিবারণ ও দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টা করেন না; ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে অংশ নেয় না; তিনি কখনোই আল্লাহ ও রাসুলের প্রিয়ভাজন হতে পারেন না। এ সম্পর্কে প্রিয় নবী (দ.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, মহান আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। (বুখারী ও মুসলিম।) প্রিয় নবী (দ.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করে না, সে আল্লাহর দয়া পায় না।’ (বুখারী।)
তাই আসুন! আমরা মানুষকে অসহায় বিপদগ্রস্ত দেখে পাশ কেটে চলে যাবো না। তার দিকে এগিয়ে যাবো। মানুষকে বিপন্ন রেখে তাদের দিক মুখ ফিরানোর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। হজরত লোকমান তার ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রিয় সন্তান! তুমি মানুষকে দেখে অহংকার কিংবা তাচ্ছিল্যভরে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।’ হায়! আজ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা আমরা ভুলে যাচ্ছি। তাইতো তরুণ যুবকরা দুস্থদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। আগে বন্যার আভাস পাওয়া মাত্রই ত্রান পৌঁছে যেত আর এবার বন্যা চরমে পৌঁছার পরও ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না। পত্রিকায় দেখেছি- খাবার না পেয়ে বন্যার্তরা হাহাকার করছে। আহারে মানবতা!
হে আল্লাহ! বানভাসী মানুষের কষ্ট আপনি দূর করে দিন। তাদের দুঃখে আমাদেরকে পাশে থেকে সহযোগিতা করার তাওফিক দিন। আমিন।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে