আরিফ রববানী ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (যুগ্মসচিব) মুফিদুল আলম বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ব্যবহারের ফলে মানব শরীরের মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে শিরা সরু হয়ে যায় এবং রক্ত চলাচলে সমস্যা হয়। যার ফলে হাইপার টেনশন, হার্ট-স্টোকের মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হয়। তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ময়মনসিংহ জেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত সমাজ গড়তে বদ্ধপরিকর। আজকের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
সোমবার (২রা জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫ (সংশোধনী-২০১৩) বাস্তবায়নে গঠিত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য এবং কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
তিনি আরও বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে। জেলা পর্যায়ে মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সভা-সেমিনার আয়োজন এবং মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিশুদেরকে খেলাধুলা ও নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবকসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পরিবার থেকে ছেলে-মেয়েদেরকে সচেতন করতে হবে। জেলা ক্রীড়া অফিসারগন বেশি বেশি করে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করবেন। জনবহুল স্থানে ধূমপান বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এসময় তিনি তামাক চাষীদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করে অন্য ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব এ. কে. এম. ফজলুল হক তার বক্তব্যে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব এবং জনস্বাস্থ্যে এর ঝুঁকি মোকাবিলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার বদ্ধপরিকর। এই আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই প্রশিক্ষণ আপনাদের আইনি ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সুষ্পষ্ট ধারণা দেবে, যা মাঠ পর্যায়ে আইন প্রয়োগে সহায়তা করবে।”
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর বিভিন্ন ধারা, উপধারা এবং বিধিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আইনের লঙ্ঘনজনিত অপরাধ ও তার শাস্তির বিধান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। কর্মশালায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা নিরসন করা হয়।
এই প্রশিক্ষণে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসক আশা করেন- এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবেন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখবেন।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে