আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
রাত পোহালেই শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহে আসছেন বিশ্বনন্দিত ইসলামিক বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে প্রধান মুফাসির হিসাবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
তার মাহফিলকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৪ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দান সেজেছে রঙ্গিন সাজে। মাঠের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। ড.মিজানুর রহমান আগমনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকালে মাঠের সর্বশেষ প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন তাফসীরুল কুরআন মাহফিল আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন,সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কায়সার,অন্যতম সদস্য আসাদুজ্জামান সোহেল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ জেলা আমীর মো : আব্দুল করিম, সেক্রেটারি, মুজাম্মেল হক আকন্দ, ময়মনসিংহ মহানগর শাখার আমির কামরুল আহসান এমরুল।
, অধ্যক্ষ উসমান গণি ও অধ্যক্ষ ড.ইদ্রিস খান,অধ্যক্ষ আতাউর রহমান,সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক।
এসময় মাহফিলের সু- শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনায় বক্তব্যে তাফসীরুল কুরআন মাহফিল আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন জানান- মাহফিলের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সকাল থেকে দিনভর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে শৃঙ্খলা রক্ষায় হাজারের অধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। আপনারাও নিজ-নিজ দায়িত্ব বোধ থেকে মাহফিলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন।
মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির অন্যতম সদস্য আসাদুজ্জামান সোহেল-বলেন,সকাল ১০টায় আমরা আমাদের মাহফিল শুরু করবো,ইতিমধ্যে মঞ্চ নির্মাণ ও ডেকোরেশন সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি এই মাহফিলে লক্ষ-লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা সমবেত হবেন,তিনি বলেন-মাহফিলে আগত লোকজনদের নিরাপত্তার জন্য আমরা বিভিন্ন পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দিয়েছি, তাছাড়া মাহফিলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বজায় রাখতে উলামায়ে কেরাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনতার সাড়া পেয়েছি, আশা করি সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবেই মাহফিলটি সম্পন্ন করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন-মিজানুর রহমান আজহারী কোনো দল বা গোষ্ঠীর নন, তিনি বিশ্ববরেণ্য একজন ইসলামিক স্কলার। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। তাঁর আগমনে ময়মনসিংহে লাখ লাখ মানুষ থাকবে। ইতিমধ্যে মাঠে হাজার-হাজার মুসল্লীরা এসে সমবেত হয়েছেন। যেহেতু লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত থাকবেন,
সেহেতু মানুষের কিছু অসুবিধা হতে পারে। সেজন্য তিনি সবার কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ইসলামের স্বার্থে আমরা সবাই এ অসুবিধা মেনে নিবেন বলে আশা করি।
বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিতির কারণে শহরে যানবাহন চলাচলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে ওইদিন। শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের আগেই বড় যানবাহনকে আটকে দেওয়া হবে। এছাড়া ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা, আকুয়া বাইপাস ও রহমতপুর বাইপাসে আটকে দেওয়া হবে বড় যানবাহন। তবে শহরের অবস্থা অনুযায়ী ইজিবাইক (অটো) চলাচল করবে। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ময়মনসিংহে। সেক্ষত্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য শহরে চলাচলে কোনো বাঁধা থাকবে না। তবে মূল শহরে যানজটের আশঙ্কায় সবাইকে বাইপস ব্যবহারের অনুরোধ জানান কামরুল হাসান মিলন।
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে ওই দিন মাহফিলে অংশ নেওয়া মহিলাদের স্বর্ণালঙ্কারের মত দামি জিনিস ব্যবহার না করতে বলেন তিনি। পুরুষেরাও প্রত্যেকে নিজের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যেন বিশেষ সর্তক থাকেন।
মাফহিলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে সার্কিট হাউজ মাঠ। ২ লাখ বর্গফুটের প্যান্ডেল ছাড়াও মাঠটিতে অবস্থান নিতে পারবেন সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা, থাকবে সিসি ক্যামেরা। ২২টি স্থানে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে মাহফিল। মাহফিলকে সফল করার লক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়েত ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলো একযোগে কাজ করছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সঙ্গে আয়োজকদের সঙ্গে সভা হয়েছে। সকাল দশটায় শুরু হওয়া মাহফিলের কার্যক্রম শেষ হবে আসরের নামাজের পর।
www.dailyamaderbani.com দেশ ও জনগণের কথা বলে