Breaking News
Home / অপরাধ / ময়মনসিংহের চর নিলক্ষীয়ায় প্রকল্পের টাকা হরিলুট করে সাংবাদিক ও নেতাদের নামে বদনাম

ময়মনসিংহের চর নিলক্ষীয়ায় প্রকল্পের টাকা হরিলুট করে সাংবাদিক ও নেতাদের নামে বদনাম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
এবার সরকারের কর্মসৃজন প্রকল্পে দূর্নীতি ও হরিলুট মাধ্যমে অর্থসাৎ করে নিজেকে রক্ষার কৌশল হিসাবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের দোহাই দিলেন এক ইউপি সদস্য। তিনি দাবী করেছেন সাংবাদিক ও নেতাদের ম্যানেজ করতে দুই লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে।ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বারের এমন বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা ও মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে হরিলুট ও অনিয়ম না করলে সাংবাদিক আর নেতা ম্যানেজ করার প্রয়োজন হতো না। দুর্ণীতি করে ধরা খাওয়ায় এখন জাতির আয়না হিসাবে পরিচিত সাংবাদিকদের নামে বদনাম ছড়ানো হচ্ছে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।

অভিযোগ উঠেছে-ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নে ইউনিয়নে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্হান কর্মসূচি প্রকল্পে ৫৯৪ জন শ্রমিক তালিকাতে দেখালেও, সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো ইউনিয়নে কাজ করেছেন মাত্র ২২৭ জন শ্রমিক। সরকারী তালিকা অনুযায়ী মাঠে শ্রমিক ছিলোনা, ফলে সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি! সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে ১.৫ ঘন মিটার মাটি কাটার কথা থাকলেও নাম মাত্র কাজ করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এসব প্রকল্প। প্রতিটি প্রকল্পে একটি করে সাইনবোর্ড ডিসপ্লে করার কথা থাকলেও কোথাও কোন সাইনবোর্ড ডিসপ্লে করা হয়নি! সুত্র জানায়-ইউনিয়নে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানাজানি হলে কোন সংবাদপত্রে যাতে সংবাদ না হয় সে জন্য স্থানীয় নেতা ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলাম রতন পরিষদের সকল ওয়ার্ড মেম্বারদের নিকট থেকে টাকা উত্তোলন প্রায় দুই লক্ষ টাকা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার রইছ উদ্দিনকে দায়িত্ব দিলেও মেম্বার রইছ উদ্দীন কাউকে ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ইউনিয়নের দুর্ণীতির বিষয়ে সংবাদমাধ্যম গুলোতে একাদিক সংবাদ প্রকাশ হলে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য মেম্বাররা রইছ উদ্দীন মেম্বারের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ৫৯৪ জন শ্রমিকের নামে একাউন্ট খুলে ২২৭ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে, ৫৯৪ জনের নামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিল উত্তলন করেছেন প্রকল্প সভাপতিরা! যেসব শ্রমিক মাঠে কাজ করেনি সেসব শ্রমিকের নামে একাউন্ট খুলে, নাম মাত্র কিছু বকশিস দিয়ে তাদের ফিঙ্গারের চাপ নিয়ে, হাতিয়ে নেয়া হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। শ্রমিকের নামে এসব একাউন্ট খুলে, শ্রমিকদের জব কার্ড ভাগাভাগি করে নিয়েছেন কতিপয় ইউপি মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতিরা। এসব ভাগবাটোয়ারায় জড়িত রয়েছেন সচিব সম্পা দেবনাথ,কার্ড বন্ঠনামায় তার নামও রয়েছে।

হরিলুট করা জব কার্ড ভাগাভাগির কথা স্বীকারও করেছেন কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি। হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একজন ইউপি সদস্য জানান, দূর্নীতির কৌশল হিসেবে জব কার্ড ভাগাভাগি করে নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ইউপি সচিব তিনি নিজেই নিয়েছেন ১৯ টি জব কার্ড। অবশ্য এসব জব কার্ড ভাগাভাগির কিছু রেকর্ড ফুটেজও রয়েছে অনেক গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে!

চরনিলক্ষিয়া ইউনিয়নের চারজন মেম্বার জানিয়েছে শ্রমিকদের নামে ৩৩ টি কার্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে রইচউদ্দীন মেম্বার নিয়েছে।এ সকল কার্ড এর টাকা দিয়ে সাংবাদিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করার কথা ছিলো। রইছ উদ্দিন মেম্বার টাকা কাউকে না দেয়ায় গনমাধ্যমে তা ফাঁস হয়ে গেছে।স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা বলেছেন রইছ উদ্দিন মেম্বার বিএনপি করেন।গরীবের ৩৩ কার্ডের ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আত্নসাৎ করেছেন, নাকি তাদের দলীয় নেতাদের দিয়েছেন তার তদন্তের জানিয়েছেন তারা।অপরদিকে সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে নিজে লাভবান হতেই রইছ উদ্দিন মেম্বার এমন পরিকল্পনায় হতদরিদ্রদের প্রাপ্য টাকা আত্নসাৎ করারও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী উঠেছে সর্বমহলের মাঝে।

এ ব্যাপরে রইছ উদ্দিন মেম্বার এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রথমে অস্লীল গালি দিয়ে বলেন মিথ্যা কথা, পরে মেম্বারদের কয়েক জনের নাম বললে তিনি বলেন- আরে এত টাকা না,যা বলেছে তার অর্ধেক হবে, আপনার সাথে সাক্ষাৎ কথা হবে ।

মেম্বারদের ভাষ্য কর্মসৃজন কাজে যা দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে তার জন্য সাংবাদিক ও স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করার জন্য ৩৩টি কার্ডের ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নিয়েছে রইছ উদ্দিন মেম্বার ।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফারুকুল ইসলাম রতন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি, পরে তার মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।

স্হানীয় এলাকাবাসী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ঘটনাটি যদি প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নিতো তাহলে এমন দূর্নীতির চিত্র দেখতে হতো না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে এই প্রতিনিধিকে জানান।

তবে স্হানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এসব নীরব দূর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্হা না নিলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলো আরো বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের গ্রাম হবে শহর এই পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।

About Mizanur Rahman

Check Also

ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে ৪মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।। গাজা ও হেরোইন উদ্ধার।।

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।। ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!